মিডলইস্টে আমেরিকা এখন আক্ষরিক অর্থেই অন্ধ। কোনো রূপক নয়, লিটারেলি! জর্ডানে আমেরিকার ১ বিলিয়ন ডলারের THAAD রাডার সিস্টেমটাকে একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইরান।

আমেরিকার কাছে শক্তিশালী মিসাইল আছে, কিন্তু এই রাডার ছাড়া সেসব অচল প্রায়।

ইরান এখানে একটা ব্রিলিয়ান্ট 'ইকোনমিক গেম' খেলছে। তারা পাঠাচ্ছে মাত্র ২,০০০ ডলারের কিছু সস্তা ড্রোন। আর আমেরিকা সেই খেলনা ড্রোন ঠেকাতে খরচ করছে তাদের মিলিয়ন ডলারের একেকটা ইন্টারসেপ্টর মিসাইল।

অংকের হিসাবটা বুঝতে পারছেন? পকেটের টাকা খরচ করিয়ে একটা সুপারপাওয়ারের সামরিক ভাণ্ডার খালি করে দেওয়ার এর চেয়ে নিখুঁত প্ল্যান আর হয় না। আর ট্র্যাজেডি হলো, এই রাডার বা মিসাইলগুলো নতুন করে বানাতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ বছর!

আগে যখন হামলা হতো, আমেরিকা বা তার মিত্ররা ২০ মিনিট আগে টের পেত। এখন সেই সময়টা নেমে এসেছে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটে। অর্থাৎ, আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ থেকে বিপদ আপনার মাথায় আছড়ে পড়বে।

সবচেয়ে ভয়ের কথাঃ ইরান তাদের আসল 'হাইপারসনিক' অস্ত্রগুলো এখনো ছোঁড়েইনি। তারা শুধু সস্তা ড্রোন দিয়ে আমেরিকার ডিফেন্স নেটওয়ার্ককে ক্লান্ত আর অন্ধ করছে। আসল খেলা তো এখনো বাকি!

সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো আমেরিকাকে জায়গা দিয়েছিল নিরাপত্তার আশায়। এখন তারা দেখছে, আমেরিকার ঘাঁটি থাকা মানেই উল্টো নিজেদের ড্রোন হামলার টার্গেট বানানো।

অতএব, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন তাদের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আমেরিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।

আমেরিকা যখন যুদ্ধের চোরাবালিতে ক্লান্ত হচ্ছে, চীন তখন নিঃশব্দে চেক বই নিয়ে রেডি হচ্ছে 'ইউয়ান' চালুর জন্য। আর রাশিয়া গ্যালারিতে বসে পপকর্ন খেতে খেতে দেখছে কীভাবে তেলের দাম বাড়ছে আর তাদের পকেট ভারী হচ্ছে।

ইরানের শর্ত খুব পরিষ্কার—"আমেরিকা, তোমরা এই অঞ্চল থেকে পাততাড়ি গুটাও।" এই একটা রাজনৈতিক পরাজয় এড়াতে গিয়ে আমেরিকা এখন এমন এক কানাগলিতে ঢুকেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই।

আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর আমরা যখন পেছনের দিকে তাকাব, তখন হয়তো দেখব—জর্ডানের ওই একটা রাডার ধ্বংস হওয়াই ছিল আমেরিকার একক আধিপত্য শেষের শুরু।

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রটা চিরতরে বদলে যাচ্ছে। আমরা কি প্রস্তুত সেই নতুন পৃথিবীর জন্য?

$MIRA #Mira @Mira - Trust Layer of AI